Uncategorized

ইসলামে নারীদের জিহাদে অংশ গ্রহণের বিধান


▬▬▬◍❂◍▬▬▬
প্রশ্ন: নারীদের জিহাদ এর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? তারা কি জিহাদে অংশ গ্রহণ করতে পারে?
উত্তর:
ইসলামে মহিলাদের জন্য শত্রুর মোকাবেলায় জিহাদ করা এবং অস্ত্র ধারণকে ফরজ (বাধ্যতা মূলক) করা হয় নি। আলেমগণ জিহাদ ফরজ হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মধ্য পুরুষ হওয়া অন্যতম। অর্থাৎ মহিলাদের জন্য জিহাদ তথা শত্রুর মোকাবেলায় লড়ায়ে অবতীর্ণ হওয়া ফরজ নয়।
ইবনে কুদামা বলেন,
يشترط لوجوب الجهاد سبعة شروط ; الإسلام , والبلوغ , والعقل , والحرية , والذكورية , والسلامة من الضرر , ووجود النفقة
“জিহাদ ফরজ হওয়ার শর্ত সাতটি। যথা:
১. মুসলিম হওয়া,
২. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া,
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হওয়া (পাগল না হওয়া),
৪. স্বাধীন (কোন ব্যক্তির দাস বা গোলাম না হওয়া),
৫. পুরুষ হওয়া,
৬. শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা মুক্ত হওয়া (যেমন: অন্ধ, নেংড়া, বোধির, মারাত্মক অসুস্থ ইত্যাদি)
৭. জিহাদের খরচ তথা প্রয়োজনীয় অর্থ থাকা।” [আল মুগনী, কিতাবুল জিহাদ]
আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
اتقوا الدنيا واتقوا النساء, فإن أول فتنة بني إسرائيل كانت في النساء وقد سألت أمنا عائشة رضي الله عنها فقالت : يا رسول الله هل على النساء جهاد؟ قال: نعم جهاد لا قتال فيه؛ الحج والعمرة رواه أحمد وأصله في البخاري
“তোমরা দুনিয়ার (ধোঁকা) থেকে বাঁচ এবং নারীর (ফিতনা থেকে) বাঁচ। কারণ, বানী ইসরাইলের সর্বপ্রথম ফিতনা নারীকে কেন্দ্র করেই হয়েছিল।
আমি আমাদের মা-জননী আয়েশা রা.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম কে জিজ্ঞেস করলাম): হে আল্লাহর রাসূল, মহিলাদের জন্য কি জিহাদ আছে?
তিনি বললেন: “হ্যাঁ, এমন জিহাদ আছে যাতে লড়াই নেই। তা হল, হজ ও ওমরা।” [মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ, হা/৩৯১০, হাদিসটি সহিহ। হাদিসের মূল বক্তব্য সহিহ বুখারিতেও বর্ণিত হয়েছে]
তবে জরুরি অবস্থায় মহিলারাও যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারে। মহিলা সাহাবিগণ লড়াইতে অংশ গ্রহণ করেছেন বলে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। যেমন: উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহান [বিখ্যাত সাহাবি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খাদেম আনাস বিন মালিক রা. সম্মানিত মা। তার উপাধি ছিলও রুমায়সা বা গুমায়সা। এ মহীয়সী নারী দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ প্রান্ত সৌভাগ্যবান নারীদের একজন] অনুরূপভাবে উম্মে মুতা (أم مطاع) খাইবার যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে অংশ গ্রহণ করেছেন বলে হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়াও খালিদ রা. বিন ওয়ালিদ রা. এবং তার সাথীদের স্ত্রীগণও যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। যেমন:
আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত আল আযদি বলেন,
غزوْتُ الرُّومَ مع خالدِ بنِ الوليدِ ؛ فَرأيْتُ نِساءَ خالدِ بنِ الوليدِ ونِساءَ أصحابِهِ مُشَمِّرَاتٍ يَحْمِلْنَ الماءَ للمهاجرينَ يَرْتَجِزْنَ
“আমি খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর সাথে রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। সেখানে দেখেছি তার নিজের এবং তার অন্যান্য সহযোদ্ধাদের (বয়স্ক) স্ত্রীগণ প্রচণ্ড উদ্যমের সাথে কবিতা আবৃত্তি করতে করতে মুহাজিরদের জন্য পানি বয়ে নিয়ে আসতো।” [সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর। শাইখ আলবানি বলেন, হাদিসটি সহিহ। দ্রষ্টব্য: আর রাদ্দুল মুফহিম/১৫৪]
অনুরূপভাবে শর্ত সাপেক্ষে পুরুষদেরকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে গমন করতে পারে। যেমন: বয়স্ক নারীরা হিজাব সহকারে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে। তারা আহত যোদ্ধাদের সেবা, যোদ্ধাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করা, তাদেরকে পানি পান করানো বা নারীদের জন্য উপযুক্ত যে সব কাজ আছে সেগুলো করবে।
রবি বিনতে মুআওয়ায রা. বলেন,
كنا نغزو مع النبي صلى الله عليه وسلم نسقي الماء ونخدمهم , ونرد الجرحى , والقتلى إلى المدينة ” رواه البخاري
“আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে যুদ্ধে গিয়ে তাদেরকে পানি পান করাতাম, খেদমত করতাম, আহত বা নিহত যোদ্ধাদেরকে মদিনায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতাম। [সহিহ বুখারি] তবে যুবতী নারীদেরকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের সুযোগ দেয়া যাবে না। কারণ তাদের ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে।
◍◍ কখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষ শত্রুর মোকাবেলা করা আবশ্যক?
যদি কাফেররা মুসলিমদের দেশে আক্রমণ করে তাহলে পুরুষরা যেমন যার যা আছে তা দিয়ে তাদের মোকাবেলা করবে। তেমনি নারীরা মোকাবেলা করবে তাদের সাধ্যানুযায়ী। কেননা আল্লাহ তাআলা কারও উপর সাধ্যাতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যরে বাইরে ‎‎দায়িত্ব দেন না।” [সূরা বাকরা: ১৮৬]
আশ শারহুস সাগীর গ্রন্থে বলা হয়েছে,
أن الجهاد إذا تعيّن بأن هجم العدو على بلاد المسلمين فإنه يجب على كلّ قادر عليه من الرجال والنساء
-الشرح الصغير من كتب المالكية (2/274) :
“শত্রু মুসলিম দেশে আক্রমণ করার কারণে জিহাদ যদি অবধারিত হয়ে তাহলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সামর্থ্য বান সকলের জন্য তা ওয়াজিব।” [আশ শারহুস সাগির ২/২৭৪]
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর নারী-পুরুষ সকলকে প্রকৃত জিহাদের প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *