Uncategorized

কষ্ট হচ্ছে ‘নেয়ামত’

[] কষ্ট হচ্ছে ‘নেয়ামত’ ❗
_____________________

হায় আফসোস! তাদের কে যখন কষ্ট ও দূর্দশা স্পর্শ করে। তখন তারা রবের দিকে না ফিরে গিয়ে! গুনাহের দিকে ফিরে যায়। অথচ, আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের মাঝে- অন্যতম একটি নেয়ামত হচ্ছে ‘কষ্ট’। [১]

অতএব আপনার উচিত হবে (আপনার প্রতিটি কষ্ট ও দূর্দশার মূহুর্তে) ধৈর্যের সাথে আল্লাহর ‘শুকরিয়া’ আদায় করা।

ওয়াল্লাহি (আল্লাহর কসম) করে বলছি। আপনার কষ্ট গুলো অল্প মূহুর্তের জন্য (চিরস্থায়ীর জন্য না)। আর আপনার রবের ভালবাসা এবং ক্ষমা চিরস্থায়ী (অল্প মূহুর্তের জন্য না)। অত:পর কষ্টের ও দুর্দশার মূহুর্তে সময়! কখনো হতাশ হয়ে যাবেন না। (কেননা) যদি আল্লাহ্‌ আপনাকে কোন দুর্দশা ও কষ্ট দ্বারা স্পর্শ করান। তাহলে তিনি ছাড়া মোচনকারী আর কেউ নেই।

[মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন]

“আর যদি আল্লাহ্‌ আপনাকে কোন দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর যদি তিনি আপনাকে কোন কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন। তবে তিনি তো সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [২]

ওয়াল্লাহি (আল্লাহর কসম) করে বলছি। আপনার রব আপনাকে কষ্ট ও দূর্দশার মাধ্যমে। তিনি উনার দিকে আপনাকে ফিরিয়ে নিতে চান। কারণ? তিনি (আল্লাহ) অনেক সময় তার প্রিয় বান্দাগুলো কে। কষ্ট ও দূর্দশায় ফেলে পরিক্ষা করতে থাকেন। যেন তারা তাদের রবের দিকে ফিরে যান।

[মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন]

আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে মহা শাস্তির পূর্বে কিছু লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব। যাতে তারা ফিরে আসে। [৩]

ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন রোগ। নিজের প্রিয়তম লোকদের মৃত্যু। ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মারাত্মক ক্ষতি ও ব্যর্থতা। এবং দুনিয়ায় মানুষ যেসব কষ্ট পায়, সেগুলো কে কুরআনের ভাষায় বলা হয় (নিকটতম শাস্তি)। [৪]

মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের কে (নিকটতম শাস্তি) এ কারণে দেন। যেন তারা বড় শাস্তির পূর্বে, দয়াময় রবের দিকে ফিরে আসে। ওয়াল্লাহি (আল্লাহর কসম) করে বলছি। তিনি চান, আমরা সবাই যেন তার দিকে ফিরে যায়।

আপনি কখনো এই আঁশা করবে না যে, আমি তো একজন ভালো মানুষ। অতএব আমাকে কোন কষ্ট এবং দূর্দশা স্পর্শ করবে না। কোন দিন এমনটা কখনো চিন্তা করবেন না। ওয়াল্লাহি (আল্লাহর কসম) করে বলছি। মহান আল্লাহ সব চেয়ে বেশি কষ্ট ও দূর্দশা দিয়ে পরিক্ষা করে থাকেন। উনার প্রিয় বান্দা গুলো কে। হাদিসে এসেছে…

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা, বিপদাপদ-বালা মুসিবত নবীদেরকে প্রদান করেন। তারপর যারা তাদের পরের লোক। তারপর যারা এর পরের লোক। তারপর যারা এর পরের লোক। [৫]

অতএব আপনি আপনার প্রতিটি কষ্ট ও দূর্দশার মূহুর্তে। কখনো হতাশ হয়ে যাবেন না। আপনি একটু কষ্ট করে ধৈর্য দরুন এবং রবের নিকট সাহায্য চান। (ইনশাআল্লাহ) তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন এবং আপনার কষ্ট আর দূর্দশা থেকে মুক্ত করবেন।

“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। [৬]



—– উমর ইবনে জর্জ ——

➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

◾ রেফারেন্স সমূহ —

[১] ➖ (উমর ইবনে জর্জ)
[২] ➖ (আনআম/১৭)
[৩] ➖ (আস সাজদাহ/২১)
[৪] ➖ (তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া)
[৫] ➖ (মুসনাদে আহমাদ)
[৬] ➖ (বাক্বারা/১৫৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *