Uncategorized

খিলাফতের ‘পুলিশ বাহিনী

খিলাফতের ‘পুলিশ বাহিনী ‘(৬১০-১৯২৪)

নববী খিলাফত
———————
রাসুলুল্লাহ সাঃ মদিনায় হিজরতের পর মক্কার কুরাইশদের হামলার আশংকায় এবং নবগঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার প্রয়োজনবোধে প্রথম পুলিশবাহিনীর অনুমোদন দেন। যেটির নাম ছিল ‘হিরাসুর রাসূল’তবে এটি ছিলো অনিয়মিত বাহিনী। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ওমর রাঃ কে নিয়োগ দেন, তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মদিনার বাজার তদারকি করতেন। তাঁর (রাঃ) এর বাহিনীর নাম ছিল আমিল আলাস সূক।

রাশিদুন খিলাফত
——————–
আবুবকর রাঃ-এর আমলে এটিকে নিয়মিত বাহিনীতে পরিণত করা হয়। ইতিহাসের প্রথম পুলিশ প্রধান হিশেবে নিয়োগ পান’ইবনে আবদুল্লাহ রাঃ।;

ওমর রাঃ এর আমলে এ বাহিনীর কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করা হয়,নিজামুল আসাস( নৈশপ্রহরী) হিরাসাতুত ত্বরিক(ট্রাফিক পুলিশ) নামে দুটি বিভাগ চালু করেন।নৈশপ্রহরীর প্রধান হিশেবে মদিনার অলিগলিতে তিনি (রাঃ) নিয়মিত টহল দিতেন। তিনি (রাঃ) মক্কার সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার বাড়িটি ক্রয় করে এটিকে কারাগারে পরিণত করেন।ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম কারাগার তাঁর (রাঃ) এর আমলে খিলাফতের সর্বত্র আধুনিক পুলিশ প্রশাসনের আদলে নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া যায়।

উসমান রাঃ এর আমলে বাহিনীর কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করা হয়, তাঁরা জননিরাপত্তার পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা,শৃঙ্খলা রক্ষায়ও মনোযোগী হয়।

আলী রাঃ হচ্ছেন কারা প্রশাসনের প্রবক্তা, তিনি কয়েদীদের জন্য পোশাক, খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।;

উমাইয়া খিলাফত
———————–
ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ আধুনিক কারাবিধি প্রণয়ন করেন তাঁর সুপারিশক্রমে বন্দীদের জীবনমান উন্নয়ন, কারাগারের আধুনিকায়ন করা হয়।

আব্বাসীয় খিলাফত
————————-
এদের আমলে পুলিশ বাহিনীর ব্যাপক আধুনিকায়ন ঘটে। আব্বাসীয় শাসকরা পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষা,অস্ত্র পরিচালনা, ঘোড়া চালানোর প্রশিক্ষণ দেন।তাঁরাই ইতিহাসের প্রথম পুলিশ স্টেশন ‘দারুশ শুরতা’পুলিশ স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেন, এবং পুলিশের জন্য ড্রেসকোড প্রণয়ন করেন।

উসমানী খিলাফত
——————
তাদের আমলে পুলিশ বাহিনীর আরো আধুনিকায়ন হয়’ইহতেশাব কানুননামা লারা’ নামক বিভাগটি এদের দেখভালের দায়িত্বে ছিল। তাদের আমলে ইতিহাসের প্রথম আধুনিক সেনাবাহিনী ‘জেনীসারী ‘গঠিত হয়।

বাহিনী প্রধানের উপাধি ছিল (সাহিবুশ-শুরতা) তবে আফ্রিকায় এদের বলা হতো ‘হাকিম ‘ স্পেনে ‘সাহাবুল মদিনা ‘অটোম্যানদের কাছে ‘ওয়ালী’ নামে পরিচিত ছিলো।
সদস্য নিয়োগদানের বেলায়.. তাকওয়া,বিচক্ষণতা, খিলাফতের প্রতি আনুগত্য এবং শারীরিক সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেয়া হতো।

ইনশাআল্লাহ. আমাদের হারানো খিলাফত আবারো ফিরে আসবে…😐

সূত্রঃ
মুকাদ্দিমা;তারিখে তাবারী;আখবারুল কুজাত
আল ইসলামু ওয়াল খিলাফা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *