Uncategorized

জিকির করার সময় এক বার উচ্চারণ করার পর কি নিঃশ্বাস ফেলতে হবে?

◈ প্রশ্ন-১: জিকির করার সময় এক বার উচ্চারণ করার পর কি নিঃশ্বাস ফেলতে হবে?
উত্তর:
জিকির আল্লাহর নিকট অতিপ্রিয় ও ফজিলপূর্ণ আমল। তাই আল্লাহ কুরআনে আমাদেরকে বেশি বেশি জিকির করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ ذِكۡرٗا كَثِيرٗا
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা প্রচুর পরিমাণে আল্লাহর জিকির করো।” (সূরা আহযাব: ৪১)
তিনি আরও বলেন,
وَاذْكُرُوا اللَّـهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“এবং তোমরা অধিক হারে আল্লাহর জিকির, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা জুমুআ: ১০)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»
“আল্লাহর জিকিরে যেন তোমার জিহ্বা সর্বদা তরতাজা থাকে।” [মুসনাদে আহমদ, সহিহুল জামে হা/৭৭০০]
সুতরাং চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে, দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে, অবসরে, কারো জন্য অপেক্ষার সময় যথাসম্ভব আল্লাহর জিকির করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল।
সহজ ও সংক্ষিপ্ত জিকিরগুলো-যেমন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আস্তাগফিরুল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম ইত্যাদি-যথাসম্ভব পাঠ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ‘প্রতিটি দুয়া-তসবিহ পাঠ করার পরে নিঃশ্বাস নিতে হবে’ শরিয়তে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং এসব ছোট ছোট তসবিহগুলো এক নিঃশ্বাসে একাধিক বার উচ্চারণ করলেও কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ। তবে সেগুলো যেন স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।
আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।
◈ প্রশ্ন-২: নামাজের তসবিহ গুলো পাঠের মাঝে কি নিঃশ্বাস ফেলতে হবে?
উত্তর:
সালাতে রুকু, সেজদা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে পঠিতব্য দুআ, জিকির, তসবিহগুলো এক নিঃশ্বাসে পড়লেও সালাতের কোনও ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ। (যেমন: সুবহা-না রাব্বিয়াল আ’লা, সুবহা-না রাব্বিয়াল আযীম ইত্যাদি) তবে সেগুলো যেন অস্পষ্ট বা অশুদ্ধ উচ্চারিত না হয় সে দিকে লক্ষ রাখা জরুরি। প্রতিটি দুআ ও তসবিহ ধীর স্থিরতার সাথে আলাদা আলাদা ভাবে শুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে পড়া অধিক উত্তম তাতে কোনও সন্দেহ নাই।
বরং সালাতের প্রতিটি কাজ যথা: কিরাআত, দুআ, তসবিহ, জিকির-আজকার ইত্যাদি পাঠ করা বা কিয়াম, রুকু, সেজদা, বৈঠক ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভয়-ভীতি, নম্রতা, একাগ্রতা এবং ধীর স্থিরতা অবলম্ব করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *