Uncategorized

বদ নজর থেকে বাঁচার কার্যকর উপায়

[] বদ নজর থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বদ নজরের গোসল করা।
আজ আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।
:
❑ বদ নজর থেকে বাঁচতে গোসলের দলিলঃ
.
আয়িশা (রা.) বলেন, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে) নজর যে ব্যক্তি লাগিয়েছে, তাকে অজু করতে বলা হতো।
আর সেই অজু-করা-পানি দিয়ে নজর লাগা ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া হতো।
আবু দাউদ, আস-সুনান: ৩৮৮০]
.
❑ যদি বদ নজরকারীকে চেনা যায় তবে…
.
যে ব্যক্তি নজর লাগিয়েছে, তার সম্পর্কে যদি জানা যায়, তবে একটি বড় পাত্রে তাকে গোসল করাবে এবং সেই পানি নিয়ে রোগীর পিঠে ঢেলে দেবে। তাতে আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে সে আরোগ্য লাভ করবে।
.
সাহল বিন হুনাইফ (রা.) এর ছেলে বলেন, আমার পিতা মদিনার খাররার নামক উপত্যকায় গোসল করার জন্যে প্রস্তুতি নিলেন।
যখন তিনি গোসলের জন্যে জামা খুললেন তখন তার শরীরে আমের বিন রাবি‘আর দৃষ্টি পড়ে।
যেহেতু সাহল বিন হুনাইফ সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন, তাই আমের দেখামাত্র বলে উঠলেন, ‘আজকের মত এমন (সুন্দর) চামড়া আমি কখনও দেখিনি; এমন কি অন্দরমহলের কুমারীদেরও না!’
তার একথা বলার সাথে সাথে সাহল তৎক্ষণাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান এবং কঠিনভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে যান।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানানো হয় এবং বলা হলো যে, তিনি তার মাথা উঠাতে পারছেন না।
.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তোমরা কি কারও প্রতি বদ নজরের সন্দেহ করো?’’
উত্তরে লোকজন বললো, ‘হ্যাঁ, আমের বিন রাবি‘আর উপর সন্দেহ হয়।’
এটা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে পাঠালেন এবং তার উপর রাগাম্বিত হয়ে বললেন, ‘‘কেন তোমাদের কেউ কেউ নিজের ভাইকে হত্যা করে? (অর্থাৎ বদ নজর দিয়ে ধ্বংস করে দেয়) তুমি তার জন্য কেন বরকতের দু‘আ করোনি? এখন তার জন্যে গোসল করো।’’
অতঃপর আমের নিজের হাত, চেহারা, দুই পা, দুই হাঁটু, দুই কনুই ও লুঙ্গির আভ্যন্তরীণ অংশ একটি পাত্রে ধৌত করলেন।
অতঃপর সেই পানি সাহল বিন হুনাইফের পিঠে ঢেলে দেয়া হলো।
এরপর তিনি সাথে সাথে সুস্থ হয়ে গেলেন।
[আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৫৯৮০; নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা: ৭৬১৮]
.
❑ গোসলের বিস্তারিত পদ্ধতিঃ
.
সাহাবিগণের ছাত্র, বিখ্যাত তাবিয়ি, ইমাম ইবনু শিহাব যুহরি (রাহ.) বলেন, গোসলের পদ্ধতি, যা আমরা আমাদের আলিমগণের কাছ থেকে শিখেছি তা হলো, যে ব্যক্তির কাছ থেকে নজর লেগেছে, তার সামনে এক পাত্র পানি দেওয়া হবে। এরপর সেই ব্যক্তি পানি নিয়ে পাত্রে কুলি করবে। এরপর পাত্রে নিজের মুখ ধুবে।
বাম হাতে ঢেলে ডান হাতের কবজি ও ডান হাতে ঢেলে বাম হাতের কবজি পর্যন্ত একবার করে ধৌত করবে।
তারপর বাম হাত দিয়ে ডান কনুই এবং ডান হাত দিয়ে বাম কনুইয়ে ঢালবে।
এরপর বাম হাতে ডান পায়ে আর ডান হাতে বাম পায়ে ঢালবে।
এরপর বাম হাতে ডান পায়ের হাঁটু আর ডান হাতে বাম পায়ের হাঁটুতে ঢালবে।
আর এইসকল কাজ যেন সেই পাত্রেই হয়। এরপর লুঙ্গি বা পায়জামার ভেতরের অংশ পাত্রে ধৌত করবে; নিচে রাখবে না।
অতঃপর সকল পানি রোগীর মাথায় একবারে ঢালবে।
[বায়হাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৯/২৫২]
.
❑ যদি বদ নজরকারীকে শনাক্ত করা না যায়, তবে বিশেষ পানি দিয়ে গোসল করাঃ
.
প্রথমে সাতটি সবুজ বরই পাতা সংগ্রহ করে পাতাগুলো গুঁড়ো করতে হবে।
এরপর গুঁড়োগুলো পানিতে মিশিয়ে সেই পানিতে কিছু আয়াত ও দু‘আ পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
তারপর রোগী সেই পানি তিনবার পান করবে আর কিছু পানি দিয়ে গোসল করবে।
.
❖ যেসব সূরা ও দু‘আ পড়ে পানিতে ফুঁ দেবেঃ
.
• দরুদে ইবরাহিম (১ বার)
• সূরা ফাতিহা (১ বার)
• আয়াতুল কুরসি তথা সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত (১ বার)
• সূরা কাফিরুন (১ বার)
• সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস (প্রতিটি ৩ বার করে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *