Uncategorized

মসজিদে দুনিয়াবি বিষয়ের পাঠ্য বই পড়া বা পড়ানোর বিধান


▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬
প্রশ্ন: আমি এক ছাত্রকে মসজিদের ভিতরে গণিত ও পদার্থ পড়াই। এটা কি মসজিদের আদবের বরখেলাপ? এ সব দুনিয়াবি বিষয় কি মসজিদে কাউকে পড়ানো জায়েজ?
উত্তর:
মসজিদ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হল, এতে সালাত, কুরআন তিলাওয়াত-কুরআন পাঠ ও পঠন, ইলম চর্চা, জিকির-আজকার, ইতিকাফ ইত্যাদি আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إنما هي لذكر الله تعالى والصلاة، وقراءة القرآن
“নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহ জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও সালাত আদায়ের জন্য।” (বুখারি ও মুসলিম-আনাস রা. হতে বর্ণিত)
তবে প্রয়োজনবোধে তাতে দুনিয়াবি উপকারী কাজ করা দোষণীয় নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ বিভিন্ন সময় মসজিদে দুনিয়াবি কাজ করেছেন বলে হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন: খাওয়া-দাওয়া করা, ঘুমানো, জাহেলি যুগের কবিতা শোনা, সেনাবাহিনী প্রস্তুত ইত্যাদি।
عبدالله بن الحارث رضي الله عنه قال :كنَّا نأكُلُ علَى عَهدِ رسولِ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ في المسجِدِ الخبزَ واللَّحْمَ ص(حيح ابن ماجه الجزء أو الصفحة/2685)
فد بوب الإمام البخاري في صحيح “باب نوم الرجال في المسجد” وأتى بحديث ابن عمر -رضي الله عنهما-: “أنه كان ينام وهو شاب أعزب لا أهل له في مسجد النبي -صلى الله عليه وسلم-“
তাছাড়া মসজিদে পড়াশোনা করার কিছু উপকারিতাও আছে। এখানে বেশ কিছু ইবাদত করা সহজ হয়ে যায়।
যেমন: পাক-পবিত্র থাকা, আজান দেয়া বা জবাব দেয়া, ওজুর পর দু রাকআত সালাত, জামাআতে তাকবিরে উলা (প্রথম তাকবির) এর সাথে সালাত, এক ওয়াক্ত সালাতের পর আরেক ওয়াক্ত সালাতের জন্য অপেক্ষা, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, অন্যান্য নামাজি দীনদার লোকদের সংস্পর্শে থাকা, বাইরের জগতের অশ্লীলতা-নোংরামি ও নানা পাপকর্ম থেকে আত্মরক্ষা ইত্যাদি।
যাহোক কতিপয় শর্তসাপেক্ষে মসজিদে দুনিয়াবি বিষয়ে পড়াশোনা করা এবং অন্যকে পড়ানো জায়েজ। সেগুলো হল:
✪ ১) যে সকল বিষয় পড়াশোনা করা হবে বা অন্যেকে পড়ানো হবে তাতে শরিয়া বিরোধী কোনও কিছু থাকা যাবে না। যেমন: পাঠ বইয়ে প্রাণীর ছবি, মেয়েদের বেপর্দা ছবি, শরিয়া বিরোধী বা অশ্লীল কোন গল্প-কবিতা, অংকের ক্ষেত্রে সুদের হিসাব কষা, শিরক-বিদআত পূর্ণ বই, পাশ্চাত্য দর্শন শাস্ত্র ইত্যাদি। এসব শর্ত সাপেক্ষে বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, গ্রামার, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান, কৃষি, অর্থনীতি, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন ইত্যাদি বিষয় নিজে পড়া বা অন্যকে পড়ানোয় কোনও আপত্তি নাই ইনশাআল্লাহ।
✪ ২) মসজিদে কোন পুরুষ কর্তৃক কোনও মেয়েকে (পর্দা সহ হোক অথবা পর্দা ছাড়া হোক) অথবা ছেলেমেয়ে একসাথে পড়া পড়া বা পড়ানো জায়েজ নাই।
✪ ৩) মসজিদে প্রবেশ কালে ওজু করে এসে বসার পূর্বে দু রাকআত দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হাদিসে দু রাকআত সালাত ছাড়া মসজিদে বসতে নিষেধ করা হয়েছে।
✪ ৪. হাদিসের আলোকে আজান হওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হয়ে পুনরায় সালাতের জন্য ফিরে আসার নিয়ত ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। (যেমন: ওজু, পেশাব-পায়খানা বা জরুরি কোনও কাজ ইত্যাদি)
✪ ৫. মসজিদের আদব রক্ষা করা জরুরি। সুতরাং মসজিদে অযথা হাসি-তামাশা, অশ্লীল কথাবার্তা, গান-বাজনা শোনা, তাতে দৌড়াদৌড়ি, দুষ্টামি এবং তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ইত্যাদি মসজিদের আদব পরিপন্থী।
✪ ৬. মসজিদে সালাত আদায়কারী, জিকির-আজকার ও তিলাওয়াত রত ব্যক্তিদেরকে বিরক্ত না করা।
✪ ৭. কাচা পিঁয়াজ-রসুন, বিড়ি-সিগারেট খেয়ে বা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পোশাক পরে মসজিদে না আসা।

এসব শর্ত সাপেক্ষে মসজিদে দুনিয়াবি বিষয়ে পড়াশোনা করা বা অন্যকে করাতে কোনও আপত্তি নাই। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের বই-পুস্তক ও সিলেবাসগুলো হারাম মুক্ত নেই বললেই চলে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম

▬▬▬▬◐◯◑▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *