Uncategorized

মৃত পিতামাতার প্রতি সন্তানের ১০টি কতর্ব্য

মৃত পিতামাতার প্রতি সন্তানের ১০টি কতর্ব্য
▬▬▬◆◯◆▬▬▬
এ কথায় কোন সন্দেহ নাই যে, সন্তানদের অস্তিত্বের প্রতিটি কোণা পিতা-মাতার নিকট ঋণী। আর তাই তো আল কুরআনে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করার কথা উচ্চারিত হয়েছে বার বার। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً
“আর তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং ধমক দিও না এবং তাদের সাথে বলো সম্মান জনক কথা।” (সূরা ইসরা/ বনী ইসরাঈলঃ ২৩)
তবে তাদের জীবদ্দশায় তাদের প্রতি সদাচরণের সব দায়-দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং মৃত্যুর পরও তাদের প্রতি আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। তাই সংক্ষেপে জেনে নি, মৃত্যুর পরে তাদের প্রতি আমাদের কী কী করণীয় রয়েছে।
পিতামাতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি সন্তানদের যে সকল করণীয় রয়েছে সেগুলো মধ্যে অন্যতম হল,
◈ ১) অধিক পরিমাণে তাদের জন্য দুয়া করা (এটি মৃত পিতামাতার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী)
◈ ২) তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকা করা।
◈ ৩) তাদের পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরা আদায় করা। (তবে যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ-উমরা করতে চায় তার জন্য আগে নিজের হজ্জ-উমরা আদায় করা আবশ্যক)
◈ ৪) তারা ঋণ রেখে গেলে ওয়ারিশদের মাঝে তার পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টনের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করা।
◈ ৫) তিনি কোনও কিছু ওসিয়ত করে গেলে তা বাস্তবায়ন করা (যদি তা শরিয়ত সম্মত হয়)।
◈ ৬) তাদের পক্ষ থেকে অসুস্থতা, বার্ধক্য ইত্যাদি ওজরের কারণে রমাযান বা মানতের ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা কাজা করা।
◈ ৭) তাদের উপর হজ্জ ফরজ হওয়ার পর শরিয়ত সম্মত ওজরের কারণে তা পূরণ করা সম্ভব না হলে অথবা কোন শরিয়ত সম্মত মানত অথবা কাফফারা (যেমন: মানত ভঙ্গ, কসম ভঙ্গ, ভুল বশত: কোন মানুকে হত্যা ইত্যাদির কাফফারা) আদায় বাকি থাকলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা। কেননা, ফরজ রোজা, ফরজ হজ, মানত, কাফফারা ইত্যাদি আল্লাহর হক। আর আল্লাহর হক বাস্তবায়ন করা সবচেয়ে বেশি হকদার।
◈ ৮) তার নিকটাত্মীয় ও বন্ধু-স্বজনদেরকে সম্মান করা।
◈ ৯) সন্তানদের কর্তব্য, আল্লাহর দ্বীনের পথে পরিচালিত হওয়া এবং আল্লাহর নাফরমানি থেকে দূরে থাকা। সন্তানগণ যত বেশি নেকির কাজ করবে পিতামাতা কবরে থাকা অবস্থায় এর সওয়াব পাবে যদি তারা জীবদ্দশায় তাদের সন্তানদেরকে দীনের উপর গড়ে তুলে এবং দীনের উপর চলতে পরামর্শ, উৎসাহ বা নির্দেশ দিয়ে যায়।
◈ ১০) এবং মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সব ধরণের বিদআতি কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা। যেমন: চল্লিশা/চেহলাম, কুলখানি, ফাতিহাখানি, মিলাদ মাহফিল, মৃত্যুবার্ষিকী, সাবিনা খতম বা হাফেজ-কারীদেরকে দিয়ে কুরআন খতম করে তার সওয়াব রেসানি বা ঈসালে সওয়াব করা ইত্যাদি।

দুআ করি, মহান আল্লাহ পৃথিবীর সকল মুমিন-মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন, তাদের কবরের আজাব মাফ করে দিন এবং পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করান। আমিন।

▬▬▬◆◯◆▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *