Uncategorized

সালাতুয যুহা, চাশত, ইশরাক, আওয়াবিন:

সালাতুয যুহা, চাশত, ইশরাক, আওয়াবিন:
এগুলোর অর্থ, ওয়াক্ত, ফযিলত এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য
▬▬▬◈◉◈▬▬▬

প্রশ্ন: সালাতুয যুহা, চাশত, ইশরাক, আওয়াবিন এর অর্থ, ওয়াক্ত, ফযিলত এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর:
আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন, সালাতুল ইশরাক বা শুরুক, সালাতু যোহা বা চাশত এবং সালাতুল আওয়াবীন ইত্যাদিগুলো একই নামাযের ভিন্ন ভিন্ন নাম।

🔸 ইশরাক অর্থ: সূর্যোদয়। সূর্য উঠার ১৫/২০ মিনিট পরে যে সালাত আদায় হয় তাকে সালাতুল ইশরাক বলা হয়। এটি মূলত: সালাতুয যোহার ১ম সময়।
🔸 সালাতুয যোহা অর্থ: পূর্বাহ্নের সালাত। এটিকেই চাশত বলা হয়। সূর্যের উত্তাপ বেশি হওয়ার পর এই সালাত আদায় করা হয়। সময়ের হিসেবে যোহর সালাতের দেড় বা দু ঘণ্টা পূর্বে এটি আদায় করা সবচেয়ে উত্তম।

🔸সালাতুল আওয়াবীন অর্থ: আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের সালাত। এটিই সালাতুয যোহা বা চাশতের অপর নাম। যেমন:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنّ رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَالَ: لَا يُحَافِظُ عَلَى صَلَاةِ الضّحَى إلّا أَوّاب وهي صلاة الأوابين
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সালাতুয যোহা (চাশতের নামায) এর প্রতি কেবল সেই যত্নবান হতে পারে যে, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। সুতরাং এটাই হল ‘সালাতুল আওয়াবীন’ বা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের সালাত।”
(সহিহ ইবনে খুযায়মা, শাইখ আলবানী এটিকে হাসান বলেছেেন। দ্রষ্টব্য: সহিহ তারগীব তারহীব ১/১৬৪)

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنِ الْقَاسِمِ الشَّيْبَانِيِّ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، رَأَى قَوْمًا يُصَلُّونَ مِنَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا لَقَدْ عَلِمُوا أَنَّ الصَّلاَةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ السَّاعَةِ أَفْضَلُ ‏.‏ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ صَلاَةُ الأَوَّابِينَ حِينَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ ‏”

কাসিম আশ শায়বানী রহ. থেকে বর্ণিত যায়দ ইবনু আরকাম রা. একদল লোককে ‘যুহা’ বা চাশতের সলাত আদায় করতে দেখে বললেনঃ এখন তো লোকজন জেনে নিয়েছে যে, এ সময় ব্যতীত অন্য সময় সলাত আদায় করা উত্তম বা সর্বাধিক মর্যাদার। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘সলাতুল আওয়াবীন’ সলাতের সময় হ’ল তখন সূর্যতাপে উটের বাচ্চাদের পা গরম হয়ে যায়।
[(সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী) অধ্যায়ঃ ৬। মুসাফিরদের সলাত ও তার কসর (كتاب صلاة المسافرين وقصرها), হাদিস নম্বরঃ [1631] পরিচ্ছদঃ ১৯. যখন উটের বাচ্চা গরম অনুভব করে (দিনের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়) তখনই সলাতুল আওওয়াবীন (চাশতের সলাতের সময়)]

👉 উল্লেখ্য যে, অনেকে মাগরিব ও ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে ছয় রাকাআত নফল সালাতকে সালাতুল আওয়াবীন হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। কিন্তু উপরোক্ত হাদীসের আলোকে প্রমাণিত হয় যে, এ কথা ঠিক নয়। যদিও মাগরিব ও ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে নফল সালাত আদায় করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে তা ছয় রাকাআতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যতখুশি পড়া যায়। আর সেটিকে সালাতুল আওয়াবীন বলাটা ভুল বা উক্ত হাদীস পরিপন্থী।

এর সর্বশেষ সময় সূর্য মাথার উপরে আসার আগ পর্যন্ত।

❖ সালাতুল ইশরাক এর ফযীলত:

সালাতুল ইশরাক অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ সালাত। এ মর্মে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ
“যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকির করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।”
বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বললেন, “পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।” অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব। (তিরমিযী, সুনান, সহিহ তারগিব ৪৬১নং)
উল্লেখ্য যে, এ হাদীসটি অনেক মুহাদ্দিস যঈফ বলেছেন। কিন্তু মুহাদ্দিস আলবানী রহ. এটিকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

❖ রাকআত সংখ্যা:

এ সালাতের সর্ব নিম্ন রাকআত সংখ্যা হল দুই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় ৮ রাকআত সালাতুয যোহা পড়েছিলেন। তবে সঠিক মতানুসারে এর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। সুতরাং ইচ্ছা অনুযায়ী দু রাকআত করে, ২, ৪, ৬, ৮, ১০, ১২ বা তার চেয়ে বেশি যতখুশি এই সালাত আদায় করা যায়। কেননা, এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আমর বিন আবাসা রা. কে লক্ষ্য করে নবী সা. বলেন
إذا صليت الفجر فأمسك عن الصلاة حتى تطلع الشمس قيد رمح ثم صل فإن الصلاة محضورة مشهودة إلى أن تقف الشمس- أخرجه مسلم في صحيحه مطولا
“ফজর পড়ার পর সূর্য উঠা পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকো। তারপর এক বর্শা পরিমান সূর্য উদিত হওয়ার পর নামায পড়ো। কেননা, নামাযে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। এভাবে তুমি সূর্য (মাথার উপর) স্থির হওয়া পর্যন্ত পড়তেই থাকো।” (সহীহ মুসলিম, এটি একটি লম্বা হাদীসে অংশ বিশেষ)
উক্ত হাদীসে নবী সা. এই সলাতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেন নি বরং সূর্য মাথা বরাবার স্থির হওয়ার আগ পর্যন্ত যতখুশি পড়তে বলেছেন।

আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
fb id: AbdullaahilHadi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *