Uncategorized

সেজদা অবস্থায় কুরআনের দুআ পাঠ এবং বাংলা ভাষায় দুআ করার বিধান


••••••••••••••••••••
প্রশ্ন: সেজদায় অনেকেই কুরআনের দোয়া এবং বাংলায় দোয়া পরার ব্যাপারে সম্মতি দেন আবার অনেকে দেন না। কোনটা করা ঠিক হবে?
উত্তর:
সিজদা ও রুকু অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয নয়। তবে কুরআনের দুয়াগুলো দুয়া হিসেবে পড়া যাবে। যেমন হাদীসে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন,
نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَقْرَأَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا»
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন, রুকূ এবং সিজদা অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে।” (নাসাঈ, হা/১১১৯-সহীহ)
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন,
أَلَا إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا، فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ، وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ قَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ
“তোমরা শুনে রেখ ! আমাকে নিষেধ করা হয়েছে রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে এবং সিজদা অবস্থায়। রুকুতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা কর। আর সিজদায় তোমরা দোয়া করতে চেষ্টা কর। তোমাদের জন্য দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত সময় এটাই।” (সুনান নাসাঈ হ/১১২০-সহীহ)
উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে জানা যায় যে, রুকু সিজদা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয নাই্।
তাই রুকু ও সেজদাহ অবস্থায় অধিক পরিমানে রুকু-সেজদার তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে।
আর সেজদাহ অবস্থায় তাসবীহগুলো পাঠ করার পাশাপাশি হাদীসে বর্ণিত দুয়াগুলো পাঠ করার চেষ্টা করতে হবে। অনুরূপভাবে কুরআনে বর্ণিত দুয়াগুলো দুয়াগুলোও পড়া জায়েয রয়েছে। তবে তা পড়তে হবে দুয়ার নিয়তে; তেলাওয়াতের নিয়তে নয়।
উক্ত হাদিস সমূহের উদ্দেশ্য হল, সেজদা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা নিষেধ। কিন্তু দুআ হিসেবে কুরআনের দুআ সম্বলিত আয়াতগুলো পড়া নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভূক্ত নয়। যেমনটি বলেছে, সৌদি স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড:
سئل علماء اللجنة الدائمة : علمنا بأنه لا يجوز قراءة القرآن في السجود ، ولكن هناك بعض الآيات تشتمل على الدعاء مثل قوله تعالى : ( ربنا لا تزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا ) ، فما حكم الإتيان بمثل هذه الأدعية الواردة في القرآن في حالة السجود ؟
فأجابوا : ” لا بأس بذلك إذا أتى بها على وجه الدعاء لا على وجه التلاوة للقرآن ” انتهى .
“فتاوى اللجنة الدائمة” (6/443) .
❑ আর সেজদাহ অবস্থায় মাতৃভাষায় দুআর ব্যাপারে কথা হল,
প্রথমত: চেষ্টা করতে হবে কুরআন ও হাদীসের দুয়াগুলো পাঠ করার। কেননা এগুলো ব্যাপকার্থ বোধক দুয়া। এ দুয়াগুলোতে মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ নিহীত রয়েছে। তারপর মহান আল্লাহর নিকট নিজের মত করে মাতৃভাষায় মনের আকুতি তুলে ধরবে। এতে কান আপত্তি নেই। বিশেষ করে নফল সালাতে্ এ সময় একাকি যথাসম্ভব লম্বা সেজদা দিয়ে নিজের ভাষায় মহান রবের নিকট নিজের সকল চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরবে। সঠিক মতানুসারে এ ক্ষেত্রে ফরজ ও নফলে কোন পার্থক্য নেই। সেজদা অবস্থায় আরবীতে দুআ করা শর্ত করা হলে, অনারব মুসলিমরা আরবী ভাষায় দুআ না করার কারণে বিশাল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
👉🏼 আরও পড়ুন:
❑ নামাযে মাতৃ ভাষায় দুআ করা
প্রশ্ন: সালাতে সেজদা অবস্থায় অধিক পরিমানে দুআ করার কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্ন হল, এ ক্ষেত্রে আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় দুআ করা জায়েয আছে কি?
উত্তর:
নামাযে অনারব ভাষায় দুআ করা যাবে কি না এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে। কেউ বলেন, জায়েয নাই। কেউ বলেছেন, জায়েয আছে। কেউ আবার যারা আরবী পারে না কেবল তাদের জন্য জায়েয বলেছেন। তবে সার্বিক বিচারে সর্বাধিক সঠিক মত হল, আরবি না জানলে নিজ ভাষাতেই দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন কল্যাণের জন্য দুয়া করা জায়েয রয়েছে। সর্ব শেষ মতটিকেই সউদী বড় আলেমগণ সমর্থন করেছেন।
▪ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম বলেছেন,
“أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ”. أخرجه مسلم (1/350 ، رقم 482)
“সিজদাহ অবস্থায় বান্দা আপন প্রভুর সবচেয়ে অধিক নিকটতম হয়ে থাকে। সুতরাং (ঐ অবস্থায়) তোমরা বেশী-বেশী করে দুআ কর।” (মুসলিম, সহীহ ১/৩৫৮, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ৪৫৬নং)
▪ ইবনে মাসউদের হাদীসে যখন তিনি তাশাহহুদ শিক্ষা দিচ্ছিলেন তখন বলেছিলেন :
( ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعاَءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُوْا )
“অত:পর তার কাছে যে দু’আ পছন্দনীয়, তা নির্বাচন করে দু’আ করবে।”
▪ অন্য এক বর্ণনায় আছে,
( ثُمَّ يَتَخَيَّرْ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ )
” অতঃপর যা ইচ্ছা চেয়ে দু’আ করতে পারে।” (বুখারী হা/৮৩৫ ও মুসলিম হা/৪০২)
সুতরাং সেজদাহ অবস্থায় অথবা সালাম ফিরানোর পূর্বে দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল কামনা করে নিজের পছন্দমত যে কোন দু’আ করবে। পিতা-মাতা ও অন্যান্য মুসলমানের জন্য দু’আ করবে, নিজের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দুআ করবে, স্ত্রী-পরিবারের জন্য দুআ করবে…।
মোটকথা, উপরোক্ত ক্ষেত্রে নিজেরমত করে যত খুশি দুআ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ফরজ অথবা নফল নামযে কোনই পার্থক্য নেই।
আরবীতে দুআ করার শর্ত করা হলে, হাদীসের উদ্দেশ্যই ব্যহত হবে। কারণ পৃথিবীতে সব মানুষের ভাষা আরবী নয়। সুতরাং তাদের দ্বারা আরবীতে দুআ করা আদৌ সম্ভবপর নয়।
উল্লেখ্য যে, সেজাদায় গিয়ে সেজদার তাসবীহগুলো আরবীতে পাঠ করার পর সর্ব প্রথম চেষ্টা করবে, হাদীস বা কুরআনে বর্ণিত আরবী ভাষায় দুআগুলো যথাসম্ভব পাঠ করার। তারপর নিজের সমস্যা ও চাওয়া-পাওয়া মহান রবের দরবারে নিজের ভাষায় কাকুতি-মিনতি সহ কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তুলে ধরে দুআ করবে। আল্লাহু আলাম।
➖➖➖➖➖
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, ksa

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *