Uncategorized

স্বপ্নদোষ, গোসল এবং নামাজ


▬▬▬◍❂◍▬▬▬
প্রশ্ন: রাতে ঘুমের ভেতরে স্বপ্নদোষ হয়েছে। কিন্তু ঘুম থেকে জাগার পর তা বুঝতে পারি নি। এ অবস্থাই ওজু করে সালাত আদায় করেছি। এখন কী করণীয়? আর স্বপ্নদোষ হলে কি ফরজ গোসল করতেই হবে?
উত্তর:
প্রথমত: আমাদের জানা জরুরি যে, কী কী কারণে ইসলামে গোসল ফরজ হয়।
সম্মানিত ফকিহগণ কুরআন-হাদিসের নির্যাস থেকে নিম্ন লিখিত কারণগুলোকে গোসল ফরজ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
✪ ১) স্বপ্নদোষ বা অন্য কোন কারণে (ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায়-পুরুষ বা মহিলার) বীর্যপাত হওয়া। [বুখারি ও মুসলিম]
✪ ২) পুরুষ ও মহিলার লজ্জা স্থান পরস্পর মিলিত হলেই উভয়ের উপর গোসল ফরজ হয়-বীর্যপাত হোক বা না হোক। [সহিহ মুসলিম]
✪ ৩) মহিলাদের হায়েজ ও নেফাস তথা মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব বন্ধ হলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। [সূরা বাকারা: ২২২]
✪ ৪) যুদ্ধ ময়দানের শহীদ ব্যতীত মৃত মুসলিম ব্যক্তিকে গোসল দেয়া জীবিতদের উপর ফরজ।
✪ ৫) ইহুদী বা খৃষ্টান বা যে কোন কাফের ইসলাম গ্রহণ করলে তার উপর গোসল ফরজ না কি মোস্তাহাব- এ বিষয়ে মহামতি ইমামদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের অভিমত হল, কোন কাফের ইসলামে প্রবেশ করলে তার জন্য গোসল করা ফরজ। পক্ষান্তরে জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ইমাম তথা ইমাম আবু হানিফা, মালেক ও শাফেয়ী প্রমুখের অভিমত হল, ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করা মোস্তাহাব; ওয়াজিব নয় এবং এটি অধিক নির্ভরযোগ্য মত।
যাহোক, উপরোক্ত কোনও একটি কারণে যদি গোসল ফরজ হয় তাহলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন ব্যতিরেকে সালাত শুদ্ধ হবে না। (পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করতে হবে)।
কেউ কেউ গোসল না করেই কেবল কাপড় পরিবর্তন করে ওজু করে নামাজ পড়ে। কিন্তু এতেও সালাত শুদ্ধ হবে না যতক্ষণ না গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
❝হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক তখন নামাজের ধারে-কাছেও যেও না যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ। ফরজ গোসলের অবস্থায়ও- যতক্ষণ না গোসল করো। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা ভিন্ন।
আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি পেশাব-পায়খানা থেকে আসে কিংবা নারী গমন করে (স্ত্রী মিলন করে) কিন্তু পরে যদি (গোসলের জন্য) পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল।❞ [সূরা নিসা: ৪৩]
তবে কেউ এ বিধান সম্পর্কে না জানার কারণে বা অথবা স্বপ্নদোষ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে না পারার কারণে বা আদৌ তা স্মরণ না থাকার কারণে যদি গোসল ব্যতিরেকে সাধারণভাবে ওজু করে সালাত আদায় করে তাহলে যখন সে এর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবে অথবা স্বপ্নদোষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে বা তা স্মরণ হবে তখন কাল বিলম্ব না করে গোসল করত: পেছনের যে সকল সালাত নাপাক অবস্থায় পড়েছিলো সেগুলো কাজা করে নিবে।
হাদিসে আছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ: ‏ “لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةً بِغَيْرِ طُهُورٍ”
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল করেন না।” [সহিহ ইবনে মাজাহ হা/২২৩]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *