Uncategorized

কিতাবুল আসনাম (মূর্তি বিষয়ক গ্রন্থ):

প্রশ্ন: হিশাম বিন কালবী কর্তৃক লিখিত “কিতাবুল অসনাম” বইটির বিশুদ্ধতা কতটুকু? এ বইটা কি পড়া যাবে? এক বড় ভাই রিকমেন্ড করেছিলেন। তাই জানতে চাচ্ছি।
উত্তর:
হেশাম ইবনে মুহম্মদ আল-কালবী (জন্ম: প্রায় ১১০ হিজরি, মৃত্যু: ২০৪ হিজরি)। ইরাকের কুফার অধিবাসী ছিলেন। আকিদাগতভাবে তিনি শিয়া-রাফেযি ছিলেন কিন্তু
তিনি জাহেলি যুগের বিভিন্ন ইতিহাস, ঘটনাবলী, আরবদের বংশ পরম্পরা, জাহেলি যুগের কবিতা, আরবের বিভিন্ন অঞ্চল, শহর-নগর ইত্যাদি বিষয়ে অনেক বড় মাপের এবং নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ ছিলেন বলে আহলে সুন্নাহর আলেমগণ স্বীকার করেছেন।
এ কারণে তারা বলেছেন, শরিয়ত তথা আকিদা, আহকাম ইত্যাদি বিষয়ে তার নিকট থেকে জ্ঞান নেয়া যাবে না। এ ছাড়া তিনি যে বিষয়ে পণ্ডিত ছিলেন সে বিষয়ে জ্ঞান নিতে কোনও আপত্তি নাই। তাই তো দেখা যায়, তার থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও নানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন মুহাম্মদ বিন সাদ, বালাযুরি, মুহাম্মদ ইবনে জারির ত্ববারি, মাসঊদি প্রমুখ বড় বড় ইতিহাসবিদগণ। কারণ এ বিষয়ে তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন।
তার রচিত ১৪২টি গ্রন্থের মধ্যে কিতাবুল আসনাম (মূর্তি বিষয়ক গ্রন্থ) একটি। এখানে তিনি জাহেলি যুগের বিভিন্ন গোত্রে ও আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব মূর্তি দেব-দেবীর উপাসনা ও পূজা-অর্চনা করা হত সেগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন। আরবের কোন এলাকায় কোন মূর্তির কদর ছিল, কোন মৌসুম কোন মূর্তির পূজা করা হত, কোন মূর্তি সম্পর্কে কোন জাহেলি কবি কী কবিতা লিখেছে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন। যেমন: লাত, উজ্জা, মানাত, হোবল, ওয়াদ্দ, সু’আ, ইয়াগুস, ইয়াউক, ‘নাসর ইত্যাদি। তিনি কাবা ঘরের ৩৬০টি মূর্তি নিয়েও গবেষণা করেছেন।
তখন আরবে কাবা শরীফের ন্যায় মর্যাদার অধিকারী তাদের আরও কিছু গৃহ ছিল। এ সব গৃহেরও খাদেম ও গিলাফ ছিল। কা‘বা শরীফের ন্যায় তারা এ সব গৃহের তওয়াফ করতো। এর উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতো। এ সম্পর্কে হেশাম ইবনে মুহম্মদ আল-কালবী স্বীয় ‘কিতাবুল আসনাম’ গ্রন্থে বলেন,
‘‘বনী হারিস ইবনে কাব গোত্রের একটি কা‘বা গৃহ ছিল নাজরান নামক স্থানে। তারা এর সম্মান করতো। এ গৃহের বর্ণনাই জাহেলি যুগের কবি আ‘শা তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন:
وكعبة نجران حتم علي ** ك حتى تناخي بأبوابها
‘‘নাজরানের কা‘বার দরজায় তোমার উট বসিয়ে দেয়া একান্ত জরুরি’’
অনুরূপভাবে ‘কুফা’ ও ‘বসরা’ এর মধ্যবর্তী ‘সিনদাদ’ নামক স্থানেও ‘ইয়াদ’ গোত্রের একটি কা‘বা ছিল। [ইবনে কাসির, আল-বেদায়াতু ওয়ান নেহায়াহ; ১/১৭৩।]
আল্লাহু আলাম।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *