মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

৳ 42

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা
লেখক : মুহাম্মাদ বিন জামিল যাইনু
প্রকাশনী : তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বিষয় : ঈমান ও আকীদা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬,  কাভার: পেপার ব্যাক
Description

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা
প্রকাশনী : তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বিষয় : ঈমান ও আকীদা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬,  কাভার: পেপার ব্যাক
বইটি কিনতে কিল্ক করুন: মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা
আরো জানতে কিল্ক করুন: তাওহীদ পাবলিকেশন্স

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

মিনহাজ

আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ্

বা

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

মূল :

মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ

প্রকাশনায়

ঢাকা-বাংলাদেশ

তাওহীদ পাবলিকেশন্স


মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

সূচীপত্র

বিষয়:

  • জয়যুক্ত দল
  • নাজাতপ্রাপ্ত দলের চলার রাস্তা (পথ নির্দেশিকা)
  • আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের হুকুমের প্রকারভেদ
  • মুক্তিপ্রাপ্ত দলের নিদর্শনসমূহ
  • কারা জয়যুক্ত দল
  • তাওহীদ এবং তার শ্রেণী বিভাগ
  • মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অর্থ কী?
  • “আমরা একমাত্র তোমারই এবাদত করি এবং একমাত্র
  • তোমার কাছেই সাহায্য চাই ।
  • একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও
  • আল্লাহতা’আলা আরশের উপর আছেন
  • তাওহীদের প্রয়োজনীয়তা
  • তাওহীদের লাভ
  • তাওহীদ আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ দেয় এবং গুনাহ মাফ করায়
  • তাওহীদের উপকারিতা
  • তাওহীদের শত্রুরা
  • তাওহীদের ক্ষেত্রে আলেমদের ভূমিকা
  • ওহাবী অর্থ কী?
  • ওহাবী বলার ইতিহাস
  • তাওহীদ ও শিরকের দ্বন্দ্ব
  • মূল কথা
  • হুকুম আহকাম শুধু আল্লাহ হতে
  • আকীদা আগে না হুকুমত আগে?
  • বড় শিরক এবং তার শ্রেণী বিভাগ
  • যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে ডাকে তাদের উদাহরণ
  • কিভাবে আমরা আল্লাহর সাথে শিরক করা হতে বিরত হব  
  • একত্ববাদী কে
  • মাজার ও দর্শনীয় বস্তু
  • ছোট শিরক ও তার শ্রেণী বিভাগ
  • শিরকের বাহ্যিক প্রকাশ 
  • শিরকের ক্ষতিকর দিক এবং তার বিপদসমূহ
  • মূল কথা
  • শরীয়তসম্মত অছীলা তালাশ করা
  • যে যে অছীলা খোঁজা নিষেধ ও দ্বীনের মধ্যে যার কোন মূল্য নেই তার শ্রেণী বিভাগ
  • আল্লাহ হতে সাহায্য পাওয়ার শর্তাবলী
  • বড় কুফর ও তার শ্রেণী বিভাগ.
  • ছোট কুফর ও তার শ্রেণী বিভাগ
  • তাগুতদের থেকে নিজেদেরকে বাঁচাও
  • বড় ক্ষনফাক ও মোনাফেকী
  • ছোট নেফাক বা ছোট মোনাফেকী
  • আল্লাহ তা’আলার আউলিয়া ও শয়তানের আউলিয়া
  • ঈমানের শাখাসমূহ
  • কিম্নাবে বিপদ দূরীভূত হয়
  • মিলাদুন্নবী
  • যে ধরনের দাঁড়ানো নিষিদ্ধ
  • কোরআন মাজীদ জীবিতদের জন্য-মৃতদের জন্য নয়
  • আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহব্বত
  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদের ফজীলত
  • বেদ’য়াতী দরূদ
  • আস সালাতু নারিয়া (দরুদে নারিয়া)
  • যে ধরনের দাঁড়ান শরীয়তসম্মত এবং পছন্দনীয়
  • দুর্বল ও মউদু হাদীস
  • কিভাবে আমরা কবর যিয়ারত করব?
  • অন্ধ অনুসরণ
  • সত্যকে প্রত্যাখ্যান কর না .
  • ছহীহ হাদীসের উপর আমলের হুকুম
  • কিছু মউছু হাদীস বা বানোয়াট হাদীস

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

ভূমিকা

পরম দয়ালু আল্লাহ তা’আলার নামে শুরু করছি

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার । আমরা তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর নিকটেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটে ক্ষমা চাচ্ছি। সাথে সাথে আমাদের অন্তরের কুমন্ত্রণা হতে এবং খারাপ আমল করা হতে বাঁচতে চাচ্ছি। যাকে আল্লাহ তা’আলা হেদায়াত দেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না । আর যে গোমরাহ হয়ে যায় তাকে কেউ হেদায়াত দিতে পারে না ।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন মা’বুদ নাই এবং তাঁর কোন শরীক নাই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল ।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের চলার পথ

আল্লাহ তা’আলা বলেন : “তোমরা সকলে আল্লাহ তা’আলার রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং দলে দলে ভাগ হয়ে যেও না।” (সূরা আল এমরান : ১০৩)

এই ছোট মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকার বইটিতে ইসলামের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে । এই মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা বইয়ের মাধ্যমে মুসলমানদের খালেছ একত্ববাদের দিকে এবং শিক হতে বিরত থাকার জন্য ডাকা হচ্ছে, বেশির ভাগ মুসলিম দেশে যার প্রকাশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর কারণেই পূর্বের যামানার লোকেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং তা বর্তমান যামানার মানুষের দুর্ভাগ্যের কারণ। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের জনগণ আজ যে কষ্ট-মুসিবত, দুর্ভাগ্য, যুদ্ধ, ফেতনা ভোগ করছে তার মূল কারণই হচ্ছে শির্ক । এই মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা বইটিতে সাথে সাথে বলা হচ্ছে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকীদা ও ঈমান এবং সাহায্যপ্রাপ্ত দলের রাস্তা-যাতে আমরা ঐ রাস্তায় চলে জয়যুক্ত ও কামিয়াব হতে পারি। আল্লাহ তা’আলার কাছে দোয়া করি তিনি যেন আমাদেরকে এ নাযাতপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত করেন।

শেখ মুহাম্মদ জামিল যাইনু

মক্কার দারুল-হাদীসের শিক্ষক


মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

জয়যুক্ত দল

১। আল্লাহ তা’আলা বলেন :

ياعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا ) ( آل عمران : ١٠٣ )

অর্থাৎ (তোমরা আল্লাহ তা’আলার রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং বিভক্ত হয়ে যেও না।) (সূরা আল এমরান : ১০৩)

২। অন্যত্র আল্লাহ তা’আলা বলেন :

ولا تَكُونُوا مِنَ الْمُشركين من الذِينَ فَرَّقُوا دينَهُم وَكَانُوا شِيَعًا، كُلُّ حِزْبٍ بِمَا

অর্থাৎ (তোমরা ঐ মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেও না, যারা দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে এবং যারা দলে দলে বিভক্ত ছিল, প্রত্যেক দল তাদের কাছে যা আছে তাই নিয়েই খুশি ।) (সূরা রুম : ৩১-৩২)

৩। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

وقال صلى الله عليه وسلم أوصيكم بتقوى الله عَزَّ وَجَلَّ والسمع والطاعة وَإِنْ نامر وسُنَّةَ عليكم . عبد حبشى، فَإِنَّهُ مَنْ يَعشَ مِنْكُمْ فَسيرى اختلافا كثيرا، فَعَلَيْكُم بسنتي الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاحِدَ، وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلِّ مُحدثة بدعة، وكل بدعة ضلالةٌ، وَكُلَّ ضلالة فى كار» (صحيح رواه أبو داود

অর্থাৎ [আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করার জন্য (যিনি সম্মানী ও বড়) তার! কথা শোনা এবং মান্য করার জন্য যদিও তোমাদের আমীর হয় কোন হাবশী (কাল) দাস এবং যদি কেউ তোমাদের মধ্যে বেশিদিন বাঁচে, তবে সে নানা রকম মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমাদের উপর অবশ্য কর্তব্য এই যে, আমার সুন্নতকে ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নাতসমূহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং ঐ সমস্ত সুন্নাতকে দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরবে। দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন আমল সংযোজনের ব্যাপারে খুবই সাবধান থাকবে; নিশ্চয়ই সমস্ত নতুন আমলই বিদআত এবং সমস্ত বেদআতই গোমরাহী এবং সমস্ত গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নামের আগুন ।] (আবু দাউদ এবং অন্যরা, ছহীহ)

৪ । তিরি আরও বলেন : অর্থাৎ [আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ওহে, অবশ্যই তোমাদের পূর্বে যারা ছিল (ইহুদী ও নাছারা) তারা ৭২ দলে ভেঙ্গে গিয়েছিল এবং অবশ্যই আমার এই উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। তার মধ্যে ৭২ দল জাহান্নামী এবং একদল জান্নাতী । তারা হল মুসলমানদের দল।] (আহমদ, হাসান)

অন্য হাদীসে আছে :

অর্থাৎ (একমাত্র আমি এবং আমার ছাহাবীদের যারা অনুসরণ করে তারা ছাড়া অন্যরা জাহান্নামী ।) (তিরমিযী, হাসান)

৫। ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে :

وعن ابن مسعود رضى الله عنه قال : خَطَّ لَنَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم خَطَّا بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ : هَذَا سَبَيْلُ الله مُسْتَقِيمًا . وخَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَشَمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ هذه السَّبُلُ، لَيْسَ مِنْهَا سَبِيلُ إِلا عَلَيْهِ شَيْطَانُ يَدْعُو إِلَيْهِ، ثُمَّ قَرَأَ قَولَهُ تَعَالَى : ﴿ وَأَنَّ هَذَا صرطي مستقيما فَاتَّبِعُوهُ ، وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بكُمْ عَنْ سَبِيله، ذلكُمْ وَصَاكُم به لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون ( الأنعام : ۱۵۳ ( ) ( صحيح رواه أحمد والنسائي )

অর্থাৎ (আমাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা দাগ টানলেন । তারপর বললেন : এটা আল্লাহ তা’আলার সোজা ও সঠিক রাস্তা। তারপর তাঁর ডানে এবং বামে আরও কিছু দাগ টানলেন। তারপর বললেন : এগুলো অন্য রাস্তা যাদের প্রত্যেকটার শুরুতে শয়তান বসে মানুষদেরকে তার দিকে ডাকছে। তারপর কুরআন থেকে পড়লেন- অবশ্যই এটা আমার সরল সঠিক রাস্তা, তোমরা অবশ্যই এর অনুসরণ করবে এবং অন্যান্য রাস্তাসমূহকে অনুসরণ করো না, তাহলে এ রাস্তাসমূহ তোমাদেরকে তাঁর রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। আল্লাহ তা’আলা এভাবেই তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।) (আহমদ, নাসায়ী, হাকেম, ছহীহ)

৬। আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) তাঁর গুনিয়াতুত্তালেবীন গ্রন্থে বলেন : জয়যুক্ত দল হল আহলে সুন্নাহ্ এবং জামাআত এবং তাঁদের অন্য কোন নাম নাই একমাত্র নাম হল আছহাবুল হাদীস বা হাদীসের অনুসারী । অর্থাৎ যারা হাদীস ও কুরআন মত চলে ।

৭। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সকলকে হুকুম করছেন : আমরা যেন সকলে কুরআনকে আঁকড়ে ধরি এবং আমরা যেন ঐ মুশরেকদের মত না হই যারা তাদের দ্বীনের মধ্যে দলে দলে, গোত্রে গোত্রে ভাগ হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তা’আলার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানাচ্ছেন যে, অবশ্যই ইহুদী ও খ্রিস্টানরা বহু দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে এবং অবশ্যই মুসলমানরা তাদের থেকেও বেশি দলে বিভক্ত হয়ে যাবে । আর এই দলে দলে বিচ্ছিন্নতার কারণে তারা জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে। তাদের পথ বিচ্যুতি এবং আল্লাহ তা’আলার কিতাব থেকে দূরে সরে থাকা এবং তাঁর নবীর সুন্নাত থেকে দূরে সরে থাকা এই সমস্ত কারণেই তারা বিভক্ত হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে একদল মুক্তি পেয়ে জয়যুক্ত হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাঁরাই হল ঐ দল যারা আল্লাহ তা’আলার কালাম ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছহীহ হাদীসকে আঁকড়ে ধরে এবং ছাহাবায়ে কেরামদের (রাঃ) আমলসমূহ অনুসরণ করে ।


মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

নাজাতপ্রাপ্ত দলের চলার রাস্তা (পথ নির্দেশিকা)

১। তারাই এ দল যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবিত তাঁর রাস্তাকে আঁকড়ে ধরেছিল এবং তার মৃত্যুর পর তাঁর সাহাবীদের রাস্তাকে আঁকড়ে ধরেছে। আর তা হল কুরআন প্রদত্ত রাস্তা যা তিনি তার রাসূলের উপর অবতীর্ণ করেছিলেন এবং তার ব্যাখ্যা যা রাসূল তার সাহাবীদের বলেছেন, যা আমাদের কাছে ছহীহ হাদীসের মাধ্যমে পৌঁছেছে। আর তিনি তাঁর উম্মতকে হুকুম করেছেন সেটিকে আঁকড়ে ধরতে । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

অর্থাৎ (তোমাদের মধ্যে আমি দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি যদি তাদের আঁকড়ে ধর তবে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না । তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ্ এবং যারা তাদের আঁকড়ে ধরবে তা তাদের আলাদা করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার হাউযে কাউসারে পানি পান করবে)। (ছহীহ্, জামে সগীর)

২। ঐ দল আল্লাহ তা’আলার কিতাব ও নবীর (সঃ) হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে যখন তাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ বা গোলযোগ দেখা দেয় । সাথে সাথে আল্লাহ্ তা’আলার কথার উপর আমল করে যাতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন :

অর্থাৎ (যখন তোমাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ হয়-তখন তার বিচারের ভার আল্লাহ্ এবং রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ্ তাআলার উপর এবং আখেরাতের উপর ঈমান এনে থাক । এটিই উত্তম এবং সুন্দর ব্যাখ্যা)। (সূরা নিসা )

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন :

অর্থাৎ (না, কখনও না, তোমার প্রভুর কসম, তারা কখনই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে যে বিবাদ হয় তা মীমাংসার ভার তোমার উপর অর্পণ না করে, তারপর বিচার হলে তাতে নিজেদের অন্তরে কোনরূপ অসন্তুষ্টি প্রকাশ পায় না, যা তুমি বিচার করে দিয়েছ তাতে এবং তাকে পুরোপুরি গ্রহণ করে)। (সূরা নিসা : ৬৬)

৩। এই দল আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার উপর কারো কথার প্রাধান্য দেয় না ।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন :

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْن يدي الله ورسوله، واتَّقُوا املَه إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ

অর্থাৎ (হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার বিরুদ্ধে চলে যেও না এবং আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন এবং জানেন) । (সূরা হুজুরাত : ১)

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন : আমার ভয় হয় তোমাদের (ছাহাবা) উপর আকাশ থেকে আযাবের পাথর বর্ষিত হবে। আমি তোমাদের বলি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন, আর তোমরা বল আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) এভাবে বলেছেন ।

৪ । নাজাতপ্রাপ্ত দল তাওহীদকে অগ্রাধিকার দেয়। আর তা হল আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদের প্রকাশ করা এবাদত, উত্তম সাহায্য চাওয়া এবং বিপদগ্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট দোয়া করা, যবেহ করা, নজর দেয়া, তাওয়াক্কুল (ভরসা), আল্লাহ্ তা’আলার শরীয়তের দ্বারা বিচার এবং বাকি অন্যান্য সমস্ত ধরনের ইবাদত। আর এগুলোর উপর ভিত্তি করেই সত্যিকারের ইসলামী রাষ্ট্র গঠিত হবে। অবশ্যই শিককে দূরীভূত করতে হবে এবং অন্যান্য প্রকাশ্য যে শির্ক আজ বেশির ভাগ ইসলামী দেশে দেখা যাচ্ছে তাদেরকেও দূর করতে হবে। কারণ তাওহীদের দাবীই হচ্ছে এগুলোকে দূর করা। কোন দলই আল্লাহ্ তা’আলার সাহায্য পেতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাওহীদকে পিছনে রাখে এবং প্রত্যেক ধরনের শিরকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তোলে । এ সমস্ত কথার উত্তম নিদর্শন প্রত্যেক রাসূলরা এবং আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত রাস্তায় ।

৫। এই দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতকে জীবিত করে- ইবাদতের মধ্যে, চরিত্র গঠনের মধ্যে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। ফলে নিজেদের সমাজে তারা আগন্তুকের মত হয়ে যায় । যাদের সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা’আলার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

وَإِنَّ الإِسْلامَ بَدأ غريبا وسيعودُ غَريبا كَما بدأ، فَطُوبى للغرباء » ( رواه مسلم )

অর্থাৎ (ইসলাম শুরু হয়েছিল অপরিচিত আগন্তুকের মত এবং আবার ফিরে আসবে অপরিচিত আগন্তুকের মত যেমন শুরুতে ছিল। সেই আগন্তুকের জন্য রইল শুভেচ্ছা। (মুসলিম)

আরো বলেন :অর্থাৎ (ঐ সমস্ত আগন্তুকদের জন্য সুসংবাদ যারা মানুষদের সংশোধনের চেষ্টা করে যখন তারা নষ্ট হয়ে যায় ।) (ছহীহ, আবু আমর)

৬। এই দল আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা হাড়া অন্য কারো অন্ধ অনুসরণ করে না, যিনি ছিলেন মাসুম (গোনাহ থেকে পবিত্র), যিনি নিজের মনগড়া কোন কথা বলেননি । তিনি ছাড়া অন্য মানুষ, যিনি যতই বড় হন না কেন, ভুল করতে পারেন ।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

আল্লাহ নবী বলেন :

كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الخَطَائِينَ التَّوَابُونَ » ( حسن رواه أحمد )

অর্থাৎ (প্রত্যেক আদমের সন্তান ভুল-ভ্রান্তি করবে এবং সবচেয়ে উত্তম ভুলকারী ঐ ব্যক্তি যে খাঁটি তওবা করে এবং ভ্রান্ত পথ হতে ফেরত আসে)। (হাসান, আহম্মদ) ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর এমন কোন ব্যক্তি নাই যার সমস্ত কথা গ্রহণ করা যায়, অথবা পরিত্যাগ করা যায় ।

৭। নাজাতপ্রাপ্ত দল হল তারা যারা হাদীস ও কুরআন মাজীদ অনুযায়ী চলেন। যাদের সম্বন্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : অর্থাৎ (আমার উম্মতের মধ্যে এক দল লোক সর্বদা হক্কের উপর থাকবে। তাদের যতই অপমান করা হোক না কেন, কেউ কোন ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না কিয়ামত আসে ।) (মুসলিম)

৮। এই দল চার মুজতাহেদ ইমামকে সম্মান করে। তাদের কারো একজনের অন্ধ অনুসরণ করে না। বরং কুরআন মাজীদ ও ফেকাহ্ মসলা গ্রহণ করে। তাদের সকলের কথা হতেই মসলা গ্রহণ করে যদি সেই কথাগুলো ছহীহ হাদীসের সাথে মিলে । এটা তাঁদেরই কথার উপর আমল । কারণ তাঁরা তাদের অনুসারীদের বলেছেন, ছহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে এবং যত কথাই এর বিপরীত হবে তা ত্যাগ করতে।

৯ । এই দল মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করে। তারা বিদআতের সমস্ত রাস্তাকে অস্বীকার করে এবং ঐ সমস্ত দলকেও অস্বীকার করে যারা ইসলামকে ও উম্মতকে টুকরো টুকরো করছে এবং দ্বীনের মধ্যে বিদআতের প্রবর্তন করছে এবং সাথে সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের রাস্তা হতে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

১০। এই দল মুসলমানদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরতে ডাকেন যাতে তারা জয়যুক্ত হতে পারে এবং আল্লাহ তা’আলার দয়ায় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারেন ।

১১। এই দল ঐ বিচার ও আইনের বিরোধিতা করে যা মানুষের তৈরি-যা ইসলাম ও শরীয়তের পরিপন্থী। বরঞ্চ এরা মানব জাতিকে ডাকেন আল্লাহ্ তা’আলার কিতাব অনুযায়ী বিচার কায়েম করার দিকে, যা আল্লাহ্ তা’আলা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের সুখের জন্য নাযিল করেছেন। কারণ তিনিই উত্তমভাবে জানেন কিসে তাদের উপকার হবে। এটা অপরিবর্তনীয়- সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কখনই

১. যারা এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে চান তাঁরা আমার অনূদিত শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহঃ)-এর ‘ইনসাফ’ বইটি দেখুন ।

তার পরিবর্তন হবে না। আর প্রত্যেক যামানার লোকদের জন্যই তা প্রযোজ্য । নিশ্চয়ই সারা বিশ্বের মানুষের দুর্ভাগ্যের কারণ, বিশেষ করে ইসলামী বিশ্বের দুর্ভাগ্যের কারণ এবং তারা যত পেরেশানী ভোগ করছে এবং অপমান, অপদস্ত হচ্ছে তার বিশেষ কারণ হল আল্লাহ তা’আলার এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত মত বিচার হচ্ছে না। মুসলমানদের সম্মান কখনই আসবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ইসলামের শিক্ষার দিকে ফেরত আসবে এককভাবে বা সমষ্টিগতভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

কারণ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন :

إنَّ اللهَ لا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغيروا ما بأنفسهم الله (الرعد : ١١ )

অর্থাৎ (নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা কখনই কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের পরিবর্তন করেন।) (সূরা রাদ : ১১)

১২। এই দল সমস্ত মুসলিমদের আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় জেহাদ করার জন্য ডাকে এবং প্রত্যেক মুসলিমের উপর তাদের ক্ষমতা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী জেহাদ করা ওয়াজিব । আর জেহাদ নীচের নিয়ম অনুযায়ী হবে :

প্রথমতঃ জিহ্বার দ্বারা এবং লেখনীর দ্বারা : মুসলমানদেরকে এবং অন্যদেরকেও সত্যিকারের ইসলামকে আঁকড়ে ধরার জন্য দাওয়াত দিতে এবং শির্কমুক্ত তাওহীদকে আঁকড়ে ধরার জন্যও, যে শির্ক আজ বেশির ভাগ মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন :

অর্থাৎ (ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হতেই পারে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের কিছু দল মুশরিকদের সাথে মিলে না যায় এবং আমার উম্মতের কিছু দল গাছ, পাথরের পূজা না করে)। (ছহীহ্, আবু দাউদ)

দ্বিতীয়তঃ মালের (টাকার) দ্বারা জেহাদ করা : যার ভিতের ইসলাম প্রচারের জন্য খরচ করা এবং এর দিকে সত্যিকারভাবে দাওয়াত দিচ্ছে যে কিতাবসমূহ তা ছাপিয়ে বিলি করা, যারা দুর্বল ঈমানদার তাদের ঈমানকে দৃঢ় করে তুলতে আল্লাহ্র রাস্তায় মাল খরচ করা, অস্ত্র তৈরি ও কেনার জন্য মাল খরচ করা এবং মুজাহিদদের তৈরি করার জন্য। আর অন্যান্য যে সমস্ত জিনিস তাঁদের দরকার হয়, যেমন- খাওয়া, পরা ইত্যাদির জন্যও।

তৃতীয়তঃ জীবনের দ্বারা জেহাদ করা : যার মধ্যে রয়েছে ইসলামকে জয়যুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করা। যাতে করে আল্লাহ্ তা’আলার কলেমা উঁচু হয় এবং কাফেরদের কথা নিচু হয় । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সমস্ত দিকের কথা ইরশাদ

করে বলেন ঃ

جاهدوا المشركين بأموالكم وأنْفُسكُم وألسنتكم » ( صحيح رواه أبو داود )

অর্থাৎ (তোমার মুশরিকদের সাথে জেহাদ করতে থাক, মালের দ্বারা, জীবনের দ্বারা এবং মুখের কথার দ্বারা।) (ছহীহ, আবু দাউদ ইত্যাদি)

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের হুকুমের প্রকারভেদ

১। ফরজে আইন ঃ যখন কাফেররা কোন মুসলিম রাষ্ট্রকে আক্রমণ করে তখন তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা সকলের উপরই ফরজ। যেমন ফিলিস্তিন যা আজ শয়তান ইহুদীরা জোর করে দখল করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সামর্থ্যবান মুসলমানরা তাদেরকে ওখানে থেকে বের না করবে এবং মসজিদে আকসাকে মুসলমানদের হাতে ফিরিয়ে না আনবে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সকলেই পাপী হবে ।

২। ফরজে কেফায়া ঃ যখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুসলমান এই জিহাদের জন্য তৈরি হবে তখন বাকীরা পাপমুক্ত হয়ে যাবে। এর মধ্যে ইসলামের দাওয়াতকে সারা দুনিয়াতে ছড়ানো যাতে সমস্ত দুনিয়ার মানুষ ইসলামের উপর চলতে শুরু করে । আর যারা তাদের বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর যাতে দাওয়াতী কার্য নির্বিঘ্নে চলতে পারে ।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের নিদর্শনসমূহ

প্রথমতঃ মানুষের মধ্যে এদের সংখ্যা খুবই নগণ্য । তাদের জন্য রাসূল এই দোয়া করেছেন যে ঃ

অর্থাৎ (সেই আগন্তুকের জন্য সুসংবাদ। তারা হচ্ছেন ঐ সমস্ত লোকেরা যারা অগণিত গুনাহগার লোকদের মধ্যে চলবে, যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের চেয়ে বেশি সংখ্যক তাদের বিরোধিতা করবে।) (ছহীহ, আহমদ)

তাঁদের সম্বন্ধে কোরআনে আল্লাহ তা’আলা প্রশংসা করে বলেন-

অর্থাৎ (এবং আমার বান্দাদের মধ্যে খুব কমই শোকরগুজার) । (সূরা সাবা : ১৩) দ্বিতীয়তঃ তাঁদের সঙ্গে বেশির ভাগ লোকেরা শত্রুতা করে । তাঁদের উপর নানাবিধ দোষারোপ করে। তাদের নানা রকম বিকৃত নাম দিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করে। নবীদের সাথে যে ব্যবহার করা হত ঠিক সেই রকম ব্যবহার তারাও পায়। আল্লাহ তা’আলা তাঁদের সম্বন্ধে বলেন :

অর্থাৎ (এবং এভাবেই আমি তৈরি করেছি প্রত্যেক নবীর শত্রু । মানুষ ও জীন ( শয়তানের মধ্য হতে এরা একে অপরের কাছে গোপনে যোগাযোগ করে। আর সুন্দর করে সাজিয়ে ধোঁকার সাথে কথা বলে)। (সূরা আনআম : ১১২)

আর এভাবে আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মানুষদের তাওহীদের দিকে ডাকছিলেন তখন তাঁর কওমের লোকেরা তাঁকে চরম মিথ্যাবাদী ও যাদুকর বলেছিল-যাকে পূর্বে তারা বলত সত্যবাদী ও বিশ্বাসী।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা

Reviews (0)

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা”

Your email address will not be published.

Shopping cart
Facebook Twitter Instagram YouTube WhatsApp WhatsApp

Sign in

No account yet?